বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ | Planning Commission Job Circular 2026

3.5/5 - (2 votes)

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃপক্ষ হতে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ (Planning Commission Job Circular 2026) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ০৮ জুলাই ২০২৬ ইং প্রকাশ হয়েছে। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মোট ০১ টি ক্যাটাগরি পদে মোট ০১ জন যোগ্য নারী-পুরুষকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রার্থীদেরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত চাকরির আবেদন ফরম A4 সাইজ কাগজে পূরণপূর্বক শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয় পরিচয়পত্র, রঙিন ছবি ও স্বাক্ষর যুক্ত করে ডাকযোগের মাধ্যমে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।

অনলাইন আবেদন শুরু: আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অনলাইন আবেদন শেষ: ৩০ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৫:০০ টা।


এ পোস্টে আপনি এক নজরে পাবেন:

  • বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ সংক্ষিপ্ত তথ্য
  • পূর্ণ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির টেবিল আকারে সারাংশ
  • আবেদন করার নিয়ম, ফি জমা, পরীক্ষা, ভাইভা
  • কী কী ডকুমেন্ট লাগবে, কনফিউশন হলে কী করবেন
  • অফিসিয়াল যোগাযোগের ঠিকানা ও সাপোর্ট

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ সংক্ষিপ্ত তথ্য

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬–এর খবরটি প্রকাশিত হয়েছে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও দৈনিক যুগান্তর সংবাদ পত্রিকায়, প্রকাশের তারিখ ০৮ জুলাই ২০২৬ ইং। আবেদন গ্রহণ করা হবে ডাকযোগে, নির্ধারিত ঠিকানা বরাবর। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মোট ০১ টি ক্যাটাগরিতে ০১ জন শূন্যপদে প্রার্থী নেওয়া হবে। সাধারণ প্রার্থীদের জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বয়সের সীমাবদ্ধতা, যেখানে বয়স গণনার তারিখ ধরা হয়েছে ৩০ জুলাই ২০২৬। প্রতিটি আবেদনের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০/- টাকা, যা ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সংক্ষিপ্ত বিবরণ (টেবিলে এক নজরে)

বিষয়তথ্য
নিয়োগকারী সংস্থাবাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নামBangladesh Planning Commission Job Circular 2026
নিয়োগের ধরনসরকারি চাকরি
জব ক্যাটাগরি০১ টি
মোট শূন্যপদ০১ জন
বেতন স্কেলগ্রেড ১৪
লিঙ্গনারী ও পুরুষ উভয়ই
নাগরিকত্ববাংলাদেশী
অভিজ্ঞতাঅভিজ্ঞতা ছাড়া প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন
প্রকাশের তারিখ০৮ জুলাই ২০২৬
আবেদন শুরুর তারিখ ও সময়আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে
আবেদন শেষ তারিখ ও সময়৩০ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৫:০০ টা
আবেদন মাধ্যমডাকযোগে
অনলাইন আবেদন লিংকপ্রযোজ্য নয় (ফরম ডাউনলোডের জন্য: www.plancomm.gov.bd)
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটwww.plancomm.gov.bd

প্রার্থীর প্রাথমিক যোগ্যতার সারাংশ

বিষয়তথ্য
নাগরিকত্বপ্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
বয়সসীমা৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রার্থীদের বয়স সর্বনিম্ন ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ৩২ বছর
লিঙ্গনারী ও পুরুষ উভয় প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন
শিক্ষাগত যোগ্যতাউচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ
অভিজ্ঞতাঅভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করা যাবে
কোটার সুবিধাসরকার ঘোষিত পৃথক নীতিমালা অনুযায়ী কোটা সুবিধা প্রযোজ্য হবে
অন্যান্য শর্তকম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে প্রতি মিনিটে বাংলায় ২০ শব্দ এবং ইংরেজিতে ২০ শব্দের গতি থাকতে হবে

সবার আগে নতুন চাকরির আপডেট পেতে আমাদের WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন।


বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ এর পিডিএফ / ইমেজ

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ ২০২৬ সার্কুলার অনুযায়ী চাকরির বেতন স্কেল, পদভিত্তিক শিক্ষাগত যোগ্যতা, আবেদন করার বয়সসীমা, অভিজ্ঞতার শর্ত, অনলাইন আবেদন পদ্ধতি, আবেদন ফি এবং নিয়োগ সংক্রান্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে অবশ্যই অফিসিয়াল চাকরির বিজ্ঞপ্তি ইমেজ ভালোভাবে পড়ে নেওয়া প্রয়োজন।


নতুন চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিষয়ে আরো জানতে পারেন।

সরকারি চাকরির খবর ২০২৬

প্রাইভেট চাকরির খবর ২০২৬


বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের নিয়মাবলী ও শর্তাবলী

আবেদনের সময়সীমা (Application Timeline)

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬–এর জন্য আবেদন করতে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেঃ

সময়সীমা সম্পর্কিত বিষয়নির্ধারিত তারিখ ও সময়
অনলাইনে আবেদন শুরুর তারিখ ও সময়আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে
অনলাইনে আবেদন শেষ তারিখ ও সময়৩০ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৫:০০ টা

গুরুত্বপূর্ণ: শেষ দিনে ডাকযোগের ব্যস্ততা, কুরিয়ার বা কারিগরি বিলম্বের কারণে ঝামেলায় পড়তে না চাইলে, অন্তত ৩–৪ দিন আগে আবেদনপত্র পাঠিয়ে দেওয়া ভালো।

বয়সসীমা (Age Limit)

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ অনুযায়ী বয়স গণনার তারিখ ধরা হয়েছে ৩০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত। এক্ষেত্রে সাধারণ প্রার্থীঃ সর্বনিম্ন ১৮ বছর, সর্বোচ্চ ৩২ বছর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে। বয়স প্রমাণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র/এসএসসি সার্টিফিকেটে উল্লেখিত জন্মতারিখকে বিবেচনা করা হবে।

তাছাড়া কোটা প্রার্থী (মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইত্যাদি) – সরকার ঘোষিত পৃথক নীতিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত বয়সসীমা প্রযোজ্য হতে পারে (ডিটেইলস নিয়োগ সার্কুলার / বিজ্ঞপ্তিতে)।


অনলাইনে আবেদন পদ্ধতি (Online Application Process)

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬–এ আবেদন করতে যা করতে হবেঃ

  • ১) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুনঃ www.plancomm.gov.bd অথবা www.mopa.gov.bd
  • ২) “নোটিশ বোর্ড” অথবা চাকরির ফরম সংক্রান্ত অপশনে ক্লিক করুন।
  • ৩) কাঙ্ক্ষিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত চাকরির আবেদন ফরম এর PDF ফাইলটি ডাউনলোড করুন।
  • ৪) আবেদন ফরমটি A4 সাইজ কাগজে নিখুঁতভাবে প্রিন্ট করে নিন।
  • ৫) এখন ফরমে ধাপে ধাপে নিচের তথ্যগুলো স্বহস্তে পূরণ করুনঃ
  • ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা ইত্যাদি)
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য (এসএসসি থেকে সর্বশেষ ডিগ্রি পর্যন্ত)
  • জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর, ইমেইল ইত্যাদি।
  • ৬) এবার ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড বা যুক্ত করুন। এক্ষেত্রে –

ছবি: সদ্য তোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি আবেদন ফরমে নির্ধারিত স্থানে আঠা দিয়ে লাগাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সত্যায়িত করতে হবে।

স্বাক্ষর: আবেদনপত্রের নির্ধারিত স্থানে প্রার্থীর স্পষ্ট স্বাক্ষর থাকতে হবে।

এবার সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন – নামের বানান, জন্মতারিখ, রোল/রেজিস্ট্রেশন, ডিগ্রি/বোর্ড/ইয়ার ইত্যাদি। সব কিছু ঠিক থাকলে আবেদনপত্রের সাথে ছবিসহ যে সকল ডকুমেন্টের ফটোকপি চাওয়া হয়েছে তা সত্যায়িত করে সংযুক্ত করুন। ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদনের ফি প্রদান করে রশিদ যুক্ত করুন এবং নির্ধারিত অফিসিয়াল ঠিকানা বরাবর ডাকযােগে বা কুরিয়ার সার্ভিসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাকরির আবেদনপত্রটি জমা দিন।

অনলাইনে ফি জমা (Application Fee Payment)

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬–এর জন্য আবেদন ফি জমা দিতে হবে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে। নিম্নে ফি প্রদানের পদ্ধতি বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে দেয়া হলো:

বিষয়তথ্য
আবেদন ফি১০০/- (একশত) টাকা
ফি জমাদানের মাধ্যমব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার
জমাদানের সময়সীমা৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেল ০৫:০০ টার মধ্যে

আবেদন ফি প্রদানের নিয়মঃ

আবেদনপত্রের সাথে “কার্যক্রম বিভাগে একটি নতুন ডিজিটাল ডাটাবেজ সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন বাজেট ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ” শীর্ষক প্রকল্পের অনুকূলে ১০০/- (একশত) টাকার ব্যাংক ড্রাফট/ পে-অর্ডার সংযুক্ত করতে হবে।

এই ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মূল কপিটি অবশ্যই আবেদনপত্রের সাথে প্রধান স্টেপলার বা ক্লিপ দিয়ে সংযুক্ত করে দিতে হবে এবং নিজের কাছে ট্র্যাকিং এর জন্য একটি ফটোকপি সংরক্ষণ করে রাখা ভালো, কারণ পরবর্তীতে প্রবেশপত্র ডাউনলোড, ফলাফল দেখার সময় ও অন্যান্য আপডেট নেওয়ার সময় রেফারেন্স হিসেবে এটি লাগতে পারে।

User ID / Password ভুলে গেলে

যেহেতু এই নিয়োগটি ডাকযোগের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে এবং অনলাইন পোর্টালে কোনো সরাসরি ইউজার আইডি বা পাসওয়ার্ডের ব্যবস্থা নেই, তাই টেকনিক্যাল ইউজার আইডি বা পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের সরাসরি কোনো SMS ফরম্যাট এখানে প্রযোজ্য নয়। তবে আবেদনের ট্র্যাকিং এবং যোগাযোগের জন্য প্রার্থীর মোবাইল নম্বর ও ডাকঠিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি BPSC বা Teletalk এর মাধ্যমে কোনো অনলাইন সম্পূরক নোটিশ আসে, তবে সাধারণ নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:

(১) যদি User ID জানা থাকে

BCS HELP USER UserID → Send to 16222

(২) যদি PIN Number জানা থাকে

BCS HELP PIN PINNumber → Send to 16222

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন-এর চাকরি পরীক্ষা (Exam Steps)

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন–এর মাধ্যমে চাকরি পেতে হলে ৩টি ধাপ পার হতে হয়:

১.লিখিত পরীক্ষা (Written Exam)

২.কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা পরীক্ষা (Practical Exam)

৩.মৌখিক পরীক্ষা (Viva/Oral Exam)

পরীক্ষার সময় ও প্রবেশপত্র (Admit Card & Exam Schedule)

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন–এর পরীক্ষার প্রবেশপত্র বা পরীক্ষার সময়সূচি প্রার্থীর মোবাইলে SMS করে বা আবেদনের উল্লিখিত ঠিকানায় ডাকযোগে চিঠির মাধ্যমে জানানো হবে। এছাড়াও বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগটির সকল আপডেট তথ্য তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.plancomm.gov.bd এ প্রকাশ করা হবে। প্রার্থীদের নিজেদের দায়িত্বে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নজর রাখতে হবে। তাছাড়া সিট প্ল্যান, তারিখ, সময় ইত্যাদি মিলিয়ে দেখাও পরিক্ষার্থীর নিজস্ব দায়িত্ব।

উল্লেখ্য যে, প্রবেশপত্র ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না।


মৌখিক পরীক্ষার নিয়মাবলী (Viva Requirements)

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী চাকরি পেতে হলে মৌখিক পরীক্ষা (Oral Examination) বাধ্যতামূলক। শুধুমাত্র যারা লিখিত পরীক্ষা এবং কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন, তাদেরকেই মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হবে। মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে প্রার্থীদের কিছু নির্দিষ্ট নথিপত্র মূল কপিসহ উপস্থিত হতে হবে। কর্তৃপক্ষ এসব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রার্থীর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করবে। নথিগুলো হলো:

  • আবেদনের কপি এবং প্রবেশপত্র (Admit Card)
  • সকল স্তরের শিক্ষাগত যোগ্যতার ও অভিজ্ঞতার সনদপত্রের মূল কপি ও সত্যায়িত কপি
  • কম্পিউটার দক্ষতার সনদ (পদ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে)
  • ভোটার আইডি কার্ড কিংবা জন্ম সনদ
  • নাগরিকত্বের সনদপত্র (প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসারের কাছ থেকে)
  • চারিত্রিক সনদ (প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসারের কাছ থেকে)
  • কোটা সনদপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে: প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি)

আবেদন করার আগে নিম্নে দেওয়া বিষয়গুলো জেনে নিবেন

প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জ্ঞান

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন (Bangladesh Planning Commission) হলো দেশের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক নীতি-নির্ধারণী, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জন-অবকাঠামো সম্প্রসারণ সংক্রান্ত সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সরকারি বা ভাইভা পরীক্ষায় ভালো করার জন্য এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক তথ্য নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. প্রতিষ্ঠা ও পটভূমি

  • প্রতিষ্ঠা: স্বাধীনতাব্যাপী গণমানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন গঠন করেন।
  • ঐতিহাসিক ভিত্তি: এর মূল ভিত্তি রচিত হয়েছিল ১৯৫৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গঠিত ‘পরিকল্পনা বোর্ড’ এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকার কর্তৃক গঠিত ‘পরিকল্পনা কোষ’ (Planning Cell) থেকে।

২. সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি

  • বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে উপযুক্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও উন্নততর জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তার আলোকেই এই কমিশন কাজ করে।
  • এটি মূলত সরকারের ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ এর শিডিউল-১ অনুযায়ী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।

৩. সাংগঠনিক কাঠামো

  • চেয়ারপার্সন: এই কমিশনের প্রধান বা চেয়ারপার্সন হলেন পদাধিকারবলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
  • ভাইস-চেয়ারম্যান: পরিকল্পনা মন্ত্রী পদাধিকারবলে এই কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • সদস্য-সচিব: পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এই কমিশনের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • বিভাগসমূহ: দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে পরিকল্পনা কমিশন প্রধানত ৬টি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিভক্ত: ১. কার্যক্রম বিভাগ (Programming Division) ২. ভৌত অবকাঠামো বিভাগ (Physical Infrastructure Division) ৩. কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ ৪. শিল্প ও শক্তি বিভাগ ৫. আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ ৬. সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (General Economics Division – GED)

৪. প্রধান কার্যাবলী ও গুরুত্ব

  • জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন: দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা যেমন বার্ষিক পরিকল্পনা, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (Five Year Plan) এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (Perspective Plan) প্রণয়ন করা এর মূল কাজ।
  • এডিপি (ADP) প্রস্তুতকরণ: প্রতি অর্থবছরের জন্য ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি’ বা Annual Development Programme (ADP) এবং সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (RADP) প্রণয়ন ও বরাদ্দ বিভাজনের কাজ করে এর কার্যক্রম বিভাগ।
  • প্রকল্প মূল্যায়ন: সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে পাঠানো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর উপযোগিতা পরীক্ষা, অর্থনৈতিক মূল্যায়ন এবং জাতীয় উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে তা অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা।
  • নীতি নির্ধারণ ও বৈদেশিক সাহায্য: দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা, দারিদ্র্য নিরসন কৌশল তৈরি এবং বৈদেশিক সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা ও প্রাক্কলন নিরূপণ করা।

৫. সম্পৃক্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটি (NEC ও ECNEC)

  • NEC (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ): দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ফোরাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর প্রধান এবং পরিকল্পনা বিভাগ এর সচিবালয় হিসেবে কাজ করে।
  • ECNEC (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি): পরিকল্পনা কমিশনের উইং এই কমিটির সভা সমন্বয় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে। এর প্রধানও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিকল্প চেয়ারম্যান হলেন অর্থ উপদেষ্টা বা মন্ত্রী। পরিকল্পনা কমিশনের মূল কাজগুলো শেষ ধাপে একনেক (ECNEC) সভাতেই অনুমোদিত হয়।

আবেদনের মাধ্যম

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন–এর আবেদন গ্রহণ করা হবে শুধুমাত্র ডাকযোগে বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। সরাসরি হাতে হাতে বা ইমেইলে আবেদন জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফরম ডাউনলোড করে সঠিক নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফলে প্রার্থীদেরকে অবশ্যই ডাকযোগের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে এবং ভুল এড়াতে ধাপে ধাপে নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

আবেদনের শর্ত

সব সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার মতোই বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন–এর ক্ষেত্রেও কিছু মৌলিক শর্ত অনুসরণ বাধ্যতামূলক। প্রথমত, আবেদনকারী অবশ্যই বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনপত্রে কোনো তথ্য গোপন করা বা মিথ্যা তথ্য প্রদান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এক্ষেত্রে প্রার্থিতা যেকোনো পর্যায়ে বাতিল করা হতে পারে। একই পদের জন্য একাধিক বা ভুয়া আবেদন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তাছাড়া, কোনো ধরণের অসদুপায় বা দুর্নীতির সাথে জড়িত প্রমাণিত হলে প্রার্থীকে আইনগত জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন-এ আবেদন করতে হলে প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট পদে উল্লিখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। যেমন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে পদের জন্য আলাদা করে যোগ্যতার বিস্তারিত উল্লেখ থাকে। আবেদন করার আগে প্রার্থীদের উচিত “Educational Qualification” অংশটি ভালোভাবে পড়ে নিজের ডিগ্রি, বিষয় এবং ফলাফল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী মিলিয়ে দেখা।

পদের দায়িত্ব (Job Responsibilities)

ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদের প্রধান দায়িত্ব হলো প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দাপ্তরিক তথ্য ও উপাত্ত নিখুঁতভাবে কম্পিউটারে এন্ট্রি করা, ডেটাবেজ ফাইল আপডেট রাখা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ফাইল বা ডাটা দ্রুত সরবরাহ করা। এছাড়া প্রতি মিনিটে বাংলায় ২০ শব্দ ও ইংরেজিতে ২০ শব্দের গতি বজায় রেখে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করা এর অন্তর্ভুক্ত।

ভুল তথ্য সমাধান (Correction)

আবেদনপত্র পূরণ করার সময় অনেকেই বানান ভুল, জন্মতারিখের ভুল, NID নম্বর প্রদানে ভুল বা শিক্ষাগত তথ্য ভুল করে ফেলতে পারেন। যেহেতু এটি একটি কাগজের আবেদন ফরম, তাই খামে ভরে পাঠানোর আগে সম্পূর্ণ তথ্য ভালোভাবে কাটাকাটি ছাড়া পূরণ হয়েছে কিনা তা যাচাই করতে হবে। একবার ডাকযোগে প্রেরণ করার পর বা ব্যাংক ড্রাফট সম্পন্ন হয়ে গেলে আর কোনো তথ্য সংশোধন করার সুযোগ থাকে না। তাই আবেদনপত্র কুরিয়ারে বা ডাকে দেওয়ার আগে কমপক্ষে দু’বার তথ্য যাচাই করা উচিত।

আবেদন ফি সংক্রান্ত

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এর আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০/- টাকা, যা জমা দিতে হবে ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডারের মাধ্যমে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ফি জমা না দিলে এবং তার মূল কপি আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত না করলে আবেদন সম্পূর্ণ বলে গণ্য হবে না এবং সিস্টেম থেকে তা বাতিল হয়ে যাবে। তাই আবেদন ফি জমা দেওয়ার নিয়ম ও সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

মৌখিক পরীক্ষার শর্ত

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। মৌখিক পরীক্ষায় সাধারণত বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, সমসাময়িক দেশ-বিদেশের পরিস্থিতি, সংবিধান, প্রশাসন, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে। এছাড়াও প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ এসবই মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত। তাই প্রার্থীর সার্বিক প্রস্তুতি, আনুষ্ঠানিক পোশাক (Dress Code) এবং আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সকল নির্দেশনা

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন সম্পর্কিত সকল তথ্য যাচাইয়ের জন্য মূল সার্কুলার অথবা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকে প্রাথমিক উৎস হিসেবে ধরে নিতে হবে। কেননা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অননুমোদিত উৎস থেকে পাওয়া তথ্য অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে, তাই সেসব তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। আবেদন জমা, ফি প্রদান, প্রবেশপত্র সংগ্রহ এবং পরীক্ষার স্থান দেখার মতো প্রতিটি ধাপে নিজ দায়িত্বে ফলোআপ করা অত্যন্ত জরুরি।

ডিক্লারেশন (Declaration)

আবেদন ফরমের শেষে একটি ডিক্লারেশন বা ঘোষণামূলক অংশ থাকে, যেখানে প্রার্থীকে স্বাক্ষর করে নিশ্চিত করতে হয় যে তিনি প্রদত্ত সকল তথ্য সত্য এবং সঠিক। কোনো তথ্য পরবর্তীতে মিথ্যা বা গোপন প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ প্রার্থীর আবেদন বা প্রার্থিতা বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে। তাই আবেদন করতে গিয়ে কখনোই ভুল তথ্য, অতিরঞ্জন বা অসত্য তথ্য প্রদান করা উচিত নয়।

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন সংক্রান্ত সহায়তা ও যোগাযোগের তথ্য

অফিসিয়াল যোগাযোগের ঠিকানা

মাধ্যমতথ্য
প্রতিষ্ঠানবাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন
ঠিকানাশের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭, বাংলাদেশ
ফোন নম্বর০২২২২২১৬৬০০ (সদস্য-সচিবের দপ্তর)
ইমেইলsecretary@plandiv.gov.bd
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটwww.plancomm.gov.bd

অনলাইন আবেদন ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট

যোগাযোগ মাধ্যমতথ্য
অনলাইন আবেদন লিংকপ্রযোজ্য নয় (ফরমের জন্য: www.plancomm.gov.bd)
Teletalk হেল্পলাইন১২১ (যেকোনো টেলিটক নম্বর থেকে)
ইমেইল (All Jobs Query)info.alljobs@teletalk.com.bd (সাধারণ কুয়েরির জন্য)
সাপোর্ট ফেসবুক পেজঅফিসিয়াল ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ

ইমেইল বা মেসেজ পাঠানোর সময় Subject–এ লিখবে:

Organization Name: Bangladesh Planning Commission

Post Name: Data Entry Operator

Applicant’s User ID: XXXXX (অথবা প্রার্থীর নাম)

Contact Number: 01XXXXXXXXX

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

কোনোভাবেই কারো সাথে টাকা লেনদেন করে চাকরি নেয়ার চেষ্টা করবে না। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কখনো ব্যক্তিগতভাবে অর্থ দাবি করে না। কেউ চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা চাইলে তাকে প্রতারক হিসেবে গণ্য করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করুন। লেনদেনের সম্পূর্ণ ঝুঁকি ও দায়িত্ব প্রার্থীর নিজের।

সময় থাকতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-এর চাকরির জন্য আপনার আবেদনটি দ্রুত সেরে ফেলুন। কারণ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে নতুন করে আর আবেদন করার কোনো সুযোগ থাকবে না। সাধারণত শেষ মুহূর্তে আবেদন করতে গিয়ে সার্ভারে অতিরিক্ত চাপ বা প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে অনেকেই সমস্যার সম্মুখীন হন। এছাড়া তাড়াহুড়ো করে আবেদন করতে গেলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড বা তথ্য প্রদানে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে এবং নিশ্চিন্তে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার অন্তত কয়েকদিন আগেই আবেদন করে নেওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

নিচে সাম্প্রতিক আরও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন –

 সবার আগে সরকারি ও বেসরকারি চাকরির সর্বশেষ আপডেট জানতে ভিজিট করুন bdgovtnotice.com

Leave a Comment